বিটিসিএল -এ ইন্টারনেট

সেপ্টেম্বর 25, 2008

এখন থেকে যে কেউ (বিটিসিএল গ্রাহক) ডায়াল করে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবে। ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড হচ্ছে btcl এবং ডায়াল নম্বর ০১০১২৩৪ এই নাম্বারে। মজার ব্যপার হচ্ছে কোনরকম আবেদন করতে হবে না। বিলিং সিস্টেম হচ্ছে প্রতি মিনিট ১০ পয়সা মাত্র! মানে ১ ঘন্টা হচ্ছে ৬ টাকা মাত্র!!! :)


Hidden Files & Folder Problem

অগাষ্ট 30, 2008

There are some common viruses, their first work is to attack “Folder Option”. They disable Hidden Files & Folder; then they create some annoying script as Hidden. The fact is: user can not delete or control these Hidden files.

User have to do some Registry Edit thing to show Hidden Files & Folder.

  1. Go to Start>Run
  2. Now regedit
  3. Press Enter.
  4. Registry Editor will open.
  5. Now search User Key from below & Change the value.

User Key: [HKEY_CURRENT_USER\Software\Microsoft\Windows\CurrentVersion\Explorer\
Advanced]
Value Name: Hidden
Data Type: REG_DWORD (DWORD Value)
Value Data: (1 = show hidden, 2 = do not show)

User Key: [HKEY_CURRENT_USER\Software\Microsoft\Windows\CurrentVersion\Explorer\
Advanced]
Value Name: ShowSuperHidden
Data Type: REG_DWORD (DWORD Value)
Value Data: ( 0 = Hide Files, 1 = Show Files)


ডাউনলোড সেকশন

জুন 26, 2008

ডাউনলোড সেকশনটা চালুই করে দিলাম। নিজের বেশ কিছু কাজ কম্পিউটারে পরে আছে। অনেক অনেক আগে করা। বেশ কিছু কাজ বিক্রিযোগ্য। কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ভালো উপকারে আসবে। তাই এবার বিক্রির কথা চিন্তা ভাবনা করছি।
বিক্রির লিস্টে আছে বেশ কিছু ডেভেলপকৃত সফটওয়্যার, ডিজাইন ও এনিমেশন টেম্পলেট।
তবে অনলাইনে বিক্রির জন্য ঝামেলাতো কিছুটা রয়ে গেছেই। আমার পে-পাল একাউন্ট নাই। বেশ ঘাটাঘাটি করে দেখলাম এলার্টপে সারা বিশ্বব্যাপী একাউন্ট সাপোর্ট করে। ক্রেডিট ও মাস্টার কার্ডধারীরা খুব সহজেই এই সার্ভিসটি ব্যবহার করে কেনাকাটা করতে পারবেন। কিন্তু সমস্যা হলো অনেকেই সরাসরি পে-পাল ব্যবহারে অভ্যস্থ। তাদের কাছে আমার প্রোডাক্ট আমি বিক্রি করতে গেলে ঝামেলায় পড়বো! :(
অগত্যা মেইল করলাম পে-পাল’কে। ‘পে-পাল ভাইসাহেব, আপনি বাংলাদেশে কবে আসবেন?’ উত্তরে জানা গেলে আগামী ২০১০ এর আগে তাদের বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা কম। আর তাই বিদেশে যাওয়ার আগে আমারো পে-পাল ব্যবহার করা হচ্ছে না!

যাই হোক, আমি এখন কিছু ডিজাইনিং এর কোড’ও একই সাথে বিক্রি করার কথা চিন্তা করছি। অনেকেই আছেন, ওয়েবসাইট তৈরির জন্য আলাদা করে কোন কোম্পানীকে টাকা দিয়ে ডিজাইন করান না। নিজেই অথবা একটু আধটু জানেন এমন কাউকে দিয়ে করাতে চান। তাদের জন্য কিছু ডিজাইনিং কোড বেশ ভালো কাজে আসে। আর তাই আমিও ভাবছি…


শিক্ষা মেলা

জুন 2, 2008

স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং। এটি ছিলো আমার জীবনের প্রথম সত্যিকারের চাকরি। টাকা উপার্জন এর আগেও করেছি। কিন্তু ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরিতে প্রবেশ এর আগে কখনো করিনি। ভার্সিটির প্রথম বর্ষের ছাত্র হিসেবে পুরো বিষয়টাই ছিলো আমার কাছে অদ্ভুত রকম অনুভূতির। শিক্ষা মেলাগুলোতেই মূলতঃ আমি কাজ করতাম। শেষ শিক্ষামেলাটা ছিলো ঢাকা-টু-চট্টগ্রাম। ঢাকার মেলাটা ভালোই ছিলো, কিন্তু ঘটনা সব ঘটেছে চট্টগ্রামে।

কখনো আশা করিনি! সত্যি বলছি! কক্ষনোই আশা করিনি। চট্টগ্রামের মতো একটা জায়গায় এত্তোটা ভিড় হবে। ছেলে কি মেয়ে, বুড়া কি ধুড়া; কোনটারই কমতি নাই। এমনকি চট্টগ্রামের মেয়র পর্যন্ত এসে জেনে গেলো কি করে ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে হয়। ছেলেরা পারলে ওপাশের টেবিল টপকে এপাশে চলে আসে। ওমা! মেয়েরাও কম যায় না। ছেলেদের শরীরের সাথে ধাক্কা লাগলো কি লাগলো না; কোন পরোয়াই নাই। এক মেয়েতো আমার দুই কাঁধ ধরে ঝাঁকাতে লাগলো, “ভাইয়া আমাকে আগে বলেন.. আমাকে আগে বলেন…”

সবচাইতে অস্বস্তিতে আছে লিলি। সকাল বেলা জানিয়েছে তার মন খারাপ। সে বয়ফ্রন্ডকে মিস করছে। এই মূহুর্তে তাকে একগাদা ছেলেবুড়োর দল ঘিরে আছে। দেখে মনে হচ্ছে, সে তার বয়ফ্রন্ডকে নয়, তেল মাখা পাঁকা বাঁশকে মিস করছে। পারলে সে আশেপাশের সবাইকে ধরে ঠেঙানী দেয়!

যাই হোক দুপুরের দিকে ভিড় কিছুটা কমে আসলে একটু স্বস্তি যেন পেলাম। হঠাৎ হইচই শুনে ঘুরে তাকালাম। এক সাদা চামড়া (মানে কানাডিয়ান) সালমা শাড়ী পড়ে এসেছে। তাই নিয়ে সামনের স্টলের মেয়ের মাঝে আনন্দ উঠলে উঠেছে। হ্যাঁ, এত্তোক্ষনে খেয়াল হলো, সামনে সব মেয়ে কাউন্সিলর। এর পাশের স্টলেই দুই লাল চামড়ার (অস্ট্রেলিয়ান) পুরুষ লোক বসে আছে। কোন বাঙালী নেই। বিশেষ করে ঐ স্টলে তুলনামূলকভাবে অন্য স্টলগুলোর চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভীড় ছিলো। এই দুই মাথামোটাকে দেখার জন্য, নাকি অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি চট্টগ্রামবাসীর আগ্রহ আসলেই বেশি, তা বোঝা গেল না।
বোঝার জন্য অবশ্য আমাকে বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হয়নি! কিছুক্ষনের মধ্যেই ঢেউ খেলানো শরীর নিয়ে এক ইতালীয়ান মহিলা সালমার কাছে এসে বললো, “ওহ! সালমা! ইউ লুকিং সোওওও সেক্সি”! উত্তরে সালমা খুব সাধারনভাবেই ধন্যবাদ দিলেও, তার সাথের বাঙালী মেয়েদের চোখ আসমানে উঠে গেলো। অনেকে লজ্জায় মুখে হাত দিলো।
আমি মনে মনে বললাম, “কি আল্লাদ!”

ইতালীয়ান মহিলা পাশের স্টলে গিয়ে সেই দুই লাল চামড়ার সাথে বসলো। এত্তোক্ষনে সামনা সামনি দেখার সুযোগ হলো। কারো জামা এত্তো টাইট ফিট হতে পারে, তা একে না দেখলে বোঝতে পারতাম না। কাপড় পড়ার কি দরকার ছিলো? চোখ একটু ওপরের দিকে উঠতেই ওর চোখের সাথে চোখাচোখি হলো। লজ্জায় আমি লাল হয়ে গেলাম। সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিলাম। এরপর থেকে একরকম জোর করেই চোখ দুটোকে সরিয়ে রাখলাম, যেন ওই দিকে নজর না যায়।

সন্ধ্যায় আবারো ভিড় কমে গেলে লক্ষ্য করলাম, মহিলা কাপড় পরিবর্তন করে এসেছে। কালো রঙের টপস। সেই টপসের আবার বিশাল ছড়ানো গলা। গলার আশেপাশে ছিদ্র ছিদ্র ডিজাইনের বাহার! স্টলে একা। আমি তার দিকে তাকাতেই তার কিছু একটা মেঝেতে পড়ে গেলো। আমার দিকে একবার তাকিয়েই আমার দিকে মুখ করে জিনিসটা তোলার জন্য ঝুঁকলো। তার বড় গলা আরো নিচের দিকে ঝুলে পড়লো। এক্কেবারে তার পেট পর্যন্ত দেখতে পেলাম! হতভম্ব হয়ে আমি কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলাম! কান দিয়ে বোধহয় ধোঁয়া বের হচ্ছে।
হবিগঞ্জের কলিগ হাবিব আমার কানের কাছে এসে দমবন্ধ করা স্বরে ফিসফিস করে বললো, “ম্যাডামের বোধহয় আপনাকে পছন্দ লইছে…। এরে আপনার খুশী করতে হইতে পারে।”
শুনে আমার গলা শুকিয়ে গেলো। নিজের সমস্ত স্বত্তা এক করে তার মতো আমিও ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করলাম, “কেনো?”
“গেলো বার, এক পুরুষ বিদেশীর এই রকম করে একজন মেয়েকে পছন্দ হইছিলো। বসের আদেশে তারে খুশী করতে হইছিলো।”
“মেয়েটা রাজি হয়েছিলো?” আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম।
“কি করবো?” বিশাল এক দ্বীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো হাবিব। “আমাগো বস খুব একটা সুবিধার না। রাজী না হইলে ক্ষ্যাতি করতো।”

সে দিন কোন মতে কাজ শেষ করে হোটেলে ফিরলাম। চট্টগ্রামের থ্রিস্টার হোটেল “গোল্ডেন” - এ উঠেছি। বস আমার চালাক লোক। হাবিব তার সম্বন্ধে যা বলেছে, তা খুব একটা বিশ্বাস আমার হচ্ছে না। কারন, সে মেয়েদের জন্য আলাদা হোটেলে থাকার জায়গা করেছে। অতিরিক্ত সাবধানতা। যাতে কোন ছেলে তাদের বিরক্ত না করে। ওখানে নাকি ম্যানেজমেন্টের সার্বক্ষনিক পাহাড়া থাকবে।

আমার রুমে দুইটা সিঙ্গেল বিছানা। জানালার কাছেরটা হাবিব দখল করে নিয়েছে। জানালার কাছে লোহা আছে। লোহা কাছে থাকলে নাকি ভূত আসে না। আমার খুব ইচ্ছে করলো একে ক্ষ্যাপাতে।
মাঝ রাতে যখন টয়লেটে গেলো, আমি বাইরে দরজার কাছে গিয়ে বললাম, “হাবিব, সাবধান। ঠিকমতো পরিষ্কার হয়ে এসো। চিটাগাইঙ্গা খুব একটা ভূত সুবিধার না। টয়লেটের ভেতর থেকে যখত তখন হাত বের করে জিজ্ঞাসা করতে পারে - সুচিয়ে দেবো?”
বেচারা খুব তড়িঘড়ি করে টয়লেট থেকে বের হয়ে এলো। মুখ শুকনো করে বললো, “এই সমস্ত বিষয় নিয়া ফাইজলামো করতে নাই!”
ভয় ভাঙাতে কিছুক্ষন পরে সিগারেট আনতে গেলো। বেশিক্ষন হলো না, দুই মিনিটের মাথায় ফিরে এলো। চোখ দুটো বড় বড়। এই বার আমার খারাপ লাগলো। এত্তো ভয় পায় জানলে দুষ্টুমি করতাম না।
“ভাই, ঐ কোনার রুমে হাঁপানির শব্দ” ঢোক গিলতে গিলতে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠস্বরে বললো।
“অনেকের রাত্রি বেলায় ব্যায়াম করার শখ। হয়তো সেমনই কেউ একজন হবে।” হাই তোলে কথাটা বললাম।
“শব্দ খালি একজনের না, দুই জনের!”
“মানে?”
“এর মধ্যে একজন মেয়েলোক।”
যাচ্চেলে! বলে কি! মেয়েদেরতো অন্য হোটেলে পাঠানো হয়েছে। আমার বিশ্বাস হলো না।
“চলেনতো, আমিও একটু অনুধাবন করে আসি..” তার মতো করে বললাম।
“আমি যাবো না। ভয় করে..” চাষীর অবাধ্য ছাগলের মতো করে ঘাড় বাঁকা করলো।

আমি তাকে টেনে নিয়ে করিডোরে গেলাম। সে যেই রুমে শব্দ শুনেছে, সেটা করিডোরের ঐ মাথায়। দুই এক পা এগোতেই, সেই রুম থেকে কালো রঙের শাড়ী পড়া এক মেয়ে বের হলো। শাড়ীর উপর জরির কাজ। চিকচিক করে উঠলো। মেয়েটা এদিক ওদিক তাকালো। আমরা অন্ধকারে থাকায় বোধহয় টের পায়নি। সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেতে গিয়ে থেমে গেলো। ব্লাউজের উপর হাত দিয়ে কিছু একটা খোঁজার চেষ্টা করছে। আবার উঠে এলো। ছেলেটাও রুম থেকে বের হয়ে এলো। হাতে ছোট্ট কাপড়ের মতো কিছু একটা। ফিতা ঝুলছে। ধারনা করলাম, মেয়েটার উপরের আন্ডার গার্মেন্টস।
আমি হাবিবের হাত ধরে টেনে আবার নিজেদের রুমে চলে এলাম। তাকে আর কিছু বললাম না। নিজের বিছানায় গিয়ে লেপ মুড়ি দিলাম। হেভি শীত পড়েছে। সক্কাল সক্কাল উঠতে হবে।
হাবিব বিছানায় কিছুক্ষন শুয়ে থেকে ঘুমানোর চেষ্টা করলো। এদিক ওদিক গড়াগড়ি করছে। হাবিব নতুন বিয়ে করেছে। বোঝলাম বেচারার ঘুম আসছে না। কিছুক্ষন পর টয়লেটে গেলো। আমি মনে মনে হাসলাম।

আজ দ্বিতীয় দিন। সকাল বেলা। শিক্ষা মেলা এখনো শুরু হয় নি। সেই ইতালিয়ান মহিলা কোত্থেকে যেন হাজির হলো। লাল রঙের টপস, ভি আকৃতির বড় গলা; নিচে মিনি স্কার্ট। কোঁকড়া চুলে বোধহয় হালকা রঙ দিয়েছে।
প্রথম দিন তাকে দেখে চমৎকৃত হলেও; আজ তাকে দেখেই গলা শুকিয়ে গেলো। সত্যি বলতে, তার শরীর দেখেই আমি সন্তুষ্ট। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না। আমার যা-ই আছে, সেটা শুদ্ধ; ভবিষ্যত বউয়ের জন্য সামলে রেখেছি; এই খাটাশের জন্য না।
মহিলা আমার কাছে এগিয়ে আসলো। “হাই! আমি ম্যালিনা।” সুরে ইতালি ভাষার টান দিয়ে ইংরেজিতে বললো।
আমি সুন্দর করে হেসে নিজের নাম জানালাম। এরপর পাঁই করে পেছন দিকে ঘুরে কাগজপত্র ঠিকঠাক করার ভান করলাম। যেন আজ ঐ কাগজপত্রই আমার জীবনের সব কিছু। কাগজ আর আমি; এই দুই বিষয় ছাড়া পৃথিবীতে আর কোন বিষয়ই থাকতে পারে না! বুক ঢিপ ঢিপ করছে।
কিন্তু মহিলা ছ্যাঁচ্চোড়, দাঁড়িয়ে আছে। আমি তার দিকে তাকিয়ে আবারো হাসলাম।
“তুমি কি আমার সাথে আজ রাতে ডিনার করবে? আমি একমদ ফ্রি! আমার দুই পার্টনারের একজনও আজ রাত্রে আমার সাথে থাকবে না।” দাঁত বের করে হাসলো। সুন্দর সাদা দাঁত।
ভদ্র ভাষায় সুন্দর আমোদের আমন্ত্রন। কিন্তু আমার মন গললো না।
“আমার গার্লফ্রেন্ড আছে।” বললাম আমি।
“এখানে?” একটু অপ্রস্তুত হলো যেন!
“না। ঢাকায়।”
“তাহলে সমস্যা কি? আজকের পর তোমার সাথে আমার কোনদিন নাও দেখা হতে পারে।”
“সরি! সম্ভব না!”
মহিলা কিছুক্ষন পাশের দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে চলে গেলো। অপমানে মুখ কালো হয়ে গেছে। মায়া লাগলো চেহারা দেখে। এটা ওর দোষ না; ওর কালচারের দোষ। কিন্তু আমি যে ওর মতো না।

পরের দিন অফিসিয়াল পিকনিক। আমরা সবাই পতেঙ্গা যাবো, ওখান থেকে সোজা ঢাকা। তাই রাত্র আটটার পর মেলা থেকে ছাড়া পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম যতটা দেখা যায় দেখলাম। হাবিব বিমোহিত হলেও, আমার কাছে ঢাকা আর চট্টগ্রামের মাঝে কোন পার্থক্য নজরে আসলো না। গাড়ী দিয়ে আসার সময় পাহাড়ের এক কোনায় সেজেগুজে তিনচারটা অল্প বয়সী মেয়েদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। পাহাড়ী অঞ্চল; তাই বোধহয় আশে পাশে পুলিশ নেই।
সেদিন রাত্র দুইটার দিকে হোটেলে ফিরলাম। গতকালকের সেই রুমের কাছে দিয়ে যাওয়ার সময় দুটো ছেলেমেয়ের গোঙানী যেন শুনতে পেলাম। তারপর ভারী শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ। আমি কিছুই শুনিনি এমন ভঙ্গীতে হেঁটে চলে আসলাম। হাবিব বেচারা সেই দিন রাত্রে দুইবার টয়লেটে গেলো।

পতেঙ্গা! আমার মনে হলো বিশ্বের সবচাইতে শ্রেষ্ঠ ‘মরা’ সমুদ্র। না আছে কোন ঢেউ; না আছে কোন পর্যটক। সমুদ্র দেখার যে আশা নিয়ে এসেছিলাম, তার পুরোটাই মাটি! বিদেশিরা বেদিং স্যুট পরে এসেছে। কিন্তু চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সমুদ্রের অবস্থা তাদেরও খুব একটা পছন্দ হয়নি। ম্যালিনাকে দেখলাম। লাল রঙের বেদিং স্যুট পড়েছে। তার দুই বয়ফ্রেন্ড যেন তক্কে তক্কে আছে। সুযোগ পেলেই শরীরের এখানে ওখানে হাত দিচ্ছে। মহিলাকে দেখে মনে হলো সে এই সমস্ত উপভোগ করছে।

হঠাৎ করে চোখে পড়লো আমাদের হোটেলে রাত্রে দেখা সেই মেয়েটিকে। সাথে ছোট্ট এক বাচ্চা আর এক পুরুষ লোক। লোকটাকে আমি চিনি। ঢাকায় লোকটির সাথে আগেও দেখা হয়েছিলো। আমরা একসাথে একটি ছোট্ট প্রোজেক্টে কাজ করেছিলাম। চোখাচোখি হলে আমি লোকটির দিকে এগিয়ে গেলাম। সে পরিচয় করিয়ে দিলো সাথের মেয়েটির সাথে; তার স্ত্রী! বাচ্চাটির বয়স এক বছর! তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসার সময়, লোকটি ফিস ফিস করে কানে জানালো, এখনকার দুনিয়াতে ভালো মেয়ে পাওয়া শক্ত। তাই সে মেয়েটির সাথে দুই বছরের টানা প্রেম করে বিয়ে করেছে। এমন মেয়ে নাকি পাওয়াই যায় না। সে স্বামীকে ছাড়া আর কাউকো বোঝে না।
আমি মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। এই মেয়ে জাতটা ভালো হলে খুবই ভালো, আবার খারাপ হলে এর মতো ইবলিশ আর দুনিয়ায় একটাও নাই।

আর কিছুক্ষন পরে গাড়ীতে উঠবো। তারপর সোজা ঢাকা। হোম, সুইট হোম। হঠাৎ করে কোত্থেকে যেন লিলি’র বয়ফ্রেন্ড এসে হাজির। দুইদিনের একাকিত্ব সে সহ্য করতে পারে নি। তাই একটা বাইক নিয়ে চলে এসেছে। ঝকমক করে উঠলো যেন লিলি’র মুখ। ছেলে মেয়ে দুটো যেন হাজার হাজার বছর পর একজন আরেকজনের সাথে দেখা করছে। দেখে খুব ভালো লাগলো। মেয়েটা এত্তোদিন মন মরা হয়ে বসে থাকতো।

ছেলে মেয়ে দু’টোকে দেখে আর কারো কথা মনে পড়ে গেলো…
একজনকে পছন্দ করি আমি; কিন্তু…
আমার লাইফ স্টাইল যদিও বরাবরই একঘেঁয়ে। কিন্তু আমি খুশি ছিলাম! অবসর সময়ে কম্পিউটার গান শুনে, ভিডিও দেখে, গেম খেলে সময় কাটতো। কাউকে কখনো মিস করতাম না। বুকের কোনায় এখন ছোট্ট একটা কষ্ট, যেটা সার্বক্ষনিক গেঁথে থাকে, তখন সেটা ছিলো না। তখন আকাশের দিকে তাকালে মন ভরাট হয়ে যেতো, এখনকার মতো শূণ্য হতো না। আগে কোন ছেলে মেয়েকে একসাথে দেখলে শুধু ভালোই লাগতে, এখনকার মতো করে দীর্ঘশ্বাস বের হতো না।
বাস দিয়ে যাওয়ার সময় বিশাল বিশাল পাহাড়গুলোকে দেখতে থাকলাম। কিন্তু মনটা আমার মাঝে নেই!


ভালোলাগা-১

জুন 2, 2008

অনেকক্ষন ধরে তাকিয়ে আছি ওর ঠোঁটের দিকে। হঠাৎ করে ব্যপারটা খেয়াল করলো। গালদুটো একেবারে টমেটো রং করে হালকা ঝাড়ি মেরে জিজ্ঞাসা করলো, “এইভাবে কি দেখছো?”
বিমর্ষ কণ্ঠে বললাম, “আমার ঠোঁটে জং পড়ে যাচ্ছে..।”
“ধ্যাৎ! মানুষ দেখছে। সিন ক্রিয়েট করো না।”
আমরা বসে আছি স্টার কাবাবে। বেশ বড়সড় রেষ্টুরেন্ট। প্রচুর মানুষ। বেশিরভাগই পরিবার নিয়ে এসেছে। পিচ্চি-পাচ্চি দৌঁড়া দৌড়ি করছে। এর মধ্যে তার হাত ধরলেও সে অস্বস্তিতে ভোগা শুরু করে। অথচ টেবিলের নিচে পা দিয়ে আমাকে নিয়মিত গোঁত্তা মারছে। আর আমি মারলে সেটা সিন ক্রিয়েট হয়!
আবার তাকালাম ওর দিকে। শুরু থেকেই ওর একটা কমন প্রশ্ন ছিলো, আমি ওকে এতো পছন্দ কেনো করি! সে কোন কারন খুঁজে পায় না।

এমন না যে নতুন প্রেম। প্রায় সাত বছর হতে চললো। প্রায়ই অবাক হয়। এতো ভালো কেন বাসি!
কারনটা আমিও খুঁজে পাই নি। দেখতে এতো আহামরী কিছু নয়। কিন্তু ওর দিকে তাকিয়ে থাকলে তাকিয়েই থাকি। চোখ সরাতে ইচ্ছে করে না।

মুখে ব্রণের কিছু স্থায়ী দাগ রয়ে গেছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, ওগুলো না থাকলে সৌন্দর্যটা অপূর্ণ থেকে যেতো। তার শরীরের সবচেয়ে অপছন্দের বিষয় হচ্ছে তার চোখ। কিন্তু তার কথা মনে করতে গেলে সবার আগে তার চোখ আমার সামনে ভেসে ওঠে। যে চোখে আদর ভাসে, মায়াকাড়া দৃষ্টি ভাসে, অবাক হলে শূন্যতা ভাসে সেই চোখ দুটো হয়ে উঠেছে আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয়। আরো পছন্দ তার হাত দুটো।

আমার হাতের কাছে আসলেই কিভাবে যেন আমার ঠোঁটের কাছে নিয়ে আসি তার হাত দুটো!
আমি শপিং করা খুবই পছন্দ করি; কিন্তু নিজের জন্য না। নিজের জন্য আমার কেনাকাটা করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু ওকে সাজাতে ইচ্ছে করে মনের মতো করে। কপালে ছোট্ট টিপ, হাতে চুড়ি, ছোট হাতা ফতুয়া, জিন্স এমনকি তার পায়ের জুতো পর্যন্ত সবই আমার পছন্দে কেনা। তাকে প্রায়ই বলি, “তুমি আমার বারবি ডল।” ছোট্ট মেয়েরা যেমন তাদের বারবি ডলকে নিজের মতো করে সাজাতে পছন্দ করে, ঠিক তেমনই

আমিও তাকে নিজের মতো করে সাজাতে পছন্দ করি।
কিছুক্ষন পর বাইরে বের হলাম। বাসায় যাবো। কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। বৃষ্টির আলাদা একটা ঘ্রাণ আছে। কিছুটা মাতাল করে দেয়। প্রতিটা পানির ফোঁটার শব্দ কানের ভেতরে গিয়ে অদ্ভুত কোন খেলা করছে।
রিকশায় উঠলাম আমরা। শীতে কেঁপে উঠে ও আমার বাম হাত জড়িয়ে ধরলো। ওর গাল আমার কাঁধ ঘেষে আছে। আলতো করে চুমু খেলাম কপালে। ঠান্ডা বাতাসে শিউরে উঠলো। বাম হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। হাতদুটো হালকা ম্যাসেজ করে দিলাম। ওর মাথাটা আমার বুক ঘেঁষে আছে। ওর চুলের গন্ধ পাচ্ছি। চুলের উপরে চুমু দিলাম।
“এই…” ফিসফিস করে বললো।
“কি?”
“….”
“বলো…”
“কিছু না..”
“আমার কাছে কক্ষনো কিছু লুকাবা না বলে কথা দিছ, খেয়াল আছে?”
“হুম…”
“বলো..” ওর গালে আমার গাল ছোঁয়ালাম।
“তোমাকে আদর করতে ইচ্ছে করছে।” নিচের ঠোঁট কামড়ালো।
“করো..”
“না, থাক। অস্বস্তি হচ্ছে। আজকে না।”
“আচ্ছা।” আজ পর্যন্ত ও আমাকে আদর করতে পারেনি। অস্বস্তি হয়। প্রচন্ড ইচ্ছে হয়, তার আদর পেতে।

বাসার সামনে চলে এসেছি। নেমে যাচ্ছে.. ছোট্ট বাচ্চার মতো তার কনিষ্ঠ আঙ্গুল ধরে থাকলাম। বোধহয় করুণ চোখে তাকিয়ে আছি। আমি বুঝতে পারছি না। ও তার অন্য হাত দিয়ে আমার হাতে আলতো করে চাপ দিলো। তারপর পেছন ফিরে চলে গেলো। আর আমি তাকিয়ে থাকলাম।


কষ্ট

মার্চ 4, 2008

ভালোবাসা আসলে কি? কিছুই না! আবার অনেক কিছু। খুব সাধারনভাবে দেখলে খেয়াল করুন, একটি ছেলে আর একটি মেয়ে বিয়ের আগে একসাথে ঘুরে ফিরে, খাওয়া দাওয়া করে, সিনেমা দেখে, মাঝে মধ্যে ফোন করে কে কি করে তা জানতে চাওয়া… । আর বিয়ের আগে সুস্থ শারীরিক সম্পর্ক বলতে হাত ধরে বসে থাকা… আর বড়জোর ঠোঁটে আদর করে চুমু খাওয়া…. এইসবই তো।
আর বিয়ের পরে এই অল্প কিছুর ব্যপারগুলো আরো কমে আসে। নিজেদের বাবা-মার কাছ থেকে লুকানোর মতো তখন আর কিছু থাকে না। সব কিছুই স্বাধীন… সব কিছুই…। কিন্তু তাতে লাভটা কি! বড়জোড় একটা বছর। তারপর সংসারের অনাকাঙ্খিত বোঝা ঘাড়ের ওপর জোড় করে চাপানো। আর পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে প্রিয় মানুষটার সাথে ঝগড়া করা। সুতরাং ভালাবাসার সঠিক মর্মার্থ দাঁড়া করাতে গেলে তা হবে.. “বেহুদা ঝামেলা!”
আবার যদি ব্যপারটা এমনভাবে দাঁড়া করানো যায়; আপনি ভালোবেসেই চলেছেন… ভালোবেসেই চলেছেন… কিন্তু এর যবনিকাপাত হবে সম্পূর্ন শূন্য হাতে… তাহলে? ধরুন, আপনি একজোড়া চোখের দিকে তাকিয়েছেন কিছু আশা নিয়ে, কিছু একটা খুঁজে পেতে; কিন্তু হারিয়ে গেলেন তার চোখের শূন্যতার গহ্বরে। অথবা একজোড়া হাত আপনার হাতে তুলে নিলেন, আঁকড়ে ধরলেন আবেগ দিয়ে। কিন্তু অনুভব করলেন নিষ্প্রানতার তিক্ত ছোঁয়া… তাহলে?
চলুন ব্যপারটাকে আরেকটু তিক্ত করা যাক। আপনি চান না কোন মেয়ে আপনার জীবনে এসে সব কিছু উলোটপালোট করে দিক। মেয়ে শব্দটাই আপনার কাছে বিরক্তিকর জীব। একমাত্র এরাই পারে একটা ছেলের সঠিক চলন্ত পথে কাঁটা ছড়িয়ে দিতে। কেন আপনি চাইবেন এরা আপনার দূর্বলতা জানুক? কেন চাইবেন ভালোবাসতে?
কিন্তু তারপরেও মানুষ ভালোবাসে; যেমন আমি ভালোবেসেছি। ভালোবাসা পেতে নয়… কষ্টকে জড়াতে।

একদমই দূর্ঘটনাবশতঃ ভালোবেসেছি ওকে। ও সহজে আমার সাথে দেখা করতে রাজি হয় না। বাসা থেকে বের হতে আলসেমী কাজ করে। স্বাভাবিক ব্যপার। আমাকে ভালোবাসে না সে। তবে নাকি পছন্দ করে। খুবই পছন্দ করে। কিন্তু আসলেই কি! এমনও হতে পারে আমি তার একাকিত্বের ঝাপসা এক ছায়া; যে একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করে। এই সামান্য একটু টাইম পাস, এই আরকি! কিছুটা গান শোনার মতো। ইচ্ছে হলে গানের ক্যাসেটি চালানো হলো, ভালো লাগলো না ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হলো!

আমিই তার সাথে দেখা করার জন্য কোন না কোন ছুঁতো বের করি। যখন কোন কিছু চাই, তখন নিজেকে অনেক ছোট মনে হয়। আজ খুব কষ্ট করে মুখ থেকে বের করলাম, “আগামীকাল দেখা করবে? স্টার সিনেপ্লেক্সে কিংকং এখনো চলছে। ছবিটি তোমার ভালো লাগবে।”
আমাকে খুশি করার জন্যই হোক, কোন কিছু না ভেবেই হোক অথবা আর অলস সময় কাটানোর জন্যই হোক; সে অতি সাধারনভাবেই উত্তর দিলো, “আচ্ছা।” আর কিছু না হোক বন্ধু হিসেবে বেশ ভালো মেয়েটা।

পরের দিন চরম উত্তেজিত থাকলাম। ওর সাথে দেখা হবে। আরও একটা কারন আছে। ওর কিছু ছবি দেবে আমাকে। খুব বেশি পছন্দ করি ওর ছবি দেখতে। ও রাঙামাটি গিয়েছিলো। আমি জেদ ধরেছিলাম ও যে সমস্ত ছবি তুলেছে, আমাকে দেখাতে হবে। নিজে ক্যামেরা নেই নি বলে অন্য ছেলে বন্ধুদের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলেছে। নিজের ছবি দেখাতে পছন্দ করে না সে। যাই হোক রাজি হয়েছে; তবে বেশ কষ্টে। আমাকে ছবি দেবে, কিন্তু সব ছবি নয়। বাছাই করে দেবে। স্বাভাবিক ব্যপার; তাই না! ওর সব ছবি আমার দেখারতো অধিকার নেই। যদিও ওর ভার্সিটির ফ্রেন্ডদের তোলা; প্রতিটা ছেলে মেয়ের কাছেই ওর সব ছবি আছে….
আগ্রহের সাথে তাল মেলাতেই বোধহয় সে আমার ছবিগুলোও দেখতে চাইলো। এর আগে কখনোই চায় নি। আমি সেদিন রাত্র সাড়ে চারটা পর্যন্ত জেগে থেকে ওর চাওয়া বেশ কিছু ছবি খুঁজে বের করে আবার নতুন করে স্ক্যান করে কম্পিউটারে ঠিক করে নিলাম। ওতো কখনো কিছু চায় না আমার কাছে!

পরের দিন অফিস। জুতোটা বোধহয় আবার ব্রাশ করতে হবে। এমনিতে সাধারনতঃ অফিসে যাওয়ার সময় অতটা খেয়াল থাকে না। বডি স্প্রে, রেজর/ফোম, ইস্ত্রি করা কাপড় আলাদা করলাম। সকালে তাড়াহুড়োর সময় খেয়াল থাকবে না।
কিন্তু সকালে যা হয় আরকি। সব কিছুই ঠিকঠাক মতো ছিলো, কিন্তু অর্ধেকখানি রাস্তা গিয়ে মনে হলো পেনড্রাইভটাই নেই নি। আবার রিকশা ভাড়া করে বাসায় ফিরে এলাম। আমাকে দেখে পিচ্চি ভাগনী হৈ হৈ করে উঠলো। পেনড্রাইভ নিয়েই দৌঁড়ে আবার বেরিয়ে গেলাম।

অফিসে মাত্র মাসখানেক হলো জয়েন করেছি। আইন কানুন রক্ষায় খুবই কড়া এই অফিস। গিয়ে শুনি আজ সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন হবে। অফিসের সব্বাইকেই থাকতে হবে। বিশেষ করে আমাকে; এর আগে সাংবাদিক ছিলাম বলে। যারা সাংবাদিক সম্মেলনে আসবে, তারা হয়তো আমার আগের কলিগরাই। ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের ডাইরেক্ট হুকুম। কিন্তু আজ যাই ঘটুক, আমি আগে আগে বের হয়ে যাবো। ওর সাথে দেখা হবে; এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আর কি থাকতে পারে। সাফ জানিয়ে দিলাম পারবো না।

দুপুরে একবার ফোন দিলাম। তার বাসায় যাওয়ার কথা। দুপুরের লাঞ্চ ওখানেই করবে। খেয়েছে তো?
জানা গেলো এখনো বাইরেই আছে। আর লাঞ্চ… করে নিয়েছে।
লাইনটা কেটে একটুখানি তাকিয়ে থাকলাম হাতের মোবাইলটার দিকে। সাধারনতঃ একা একা লাঞ্চ করে না সে। কার সাথে লাঞ্চ করেছে সেটাও জানায় নি। মম… তাহলে…!

সময় মতো ব্যগটা নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। পকেটে টাকা বেশি নিয়ে ঘুরি না। তাই দুপুর বেলা ব্যাঙ্কের বুথ থেকে হাজার খানেক টাকা তুলেছি। ও চিপস খেতে পছন্দ করে। তাই চিপস আর বোরহানী কিনবো। আর রাত্রে প্রায়ই না খেয়ে ঘুমায় বলে, আজকে একসাথে ডিনার করে তারপর বাসায় ফিরবো।
কিন্তু কোন রেস্টুরেন্টটা ভালো হবে? একবার মনে পড়লো ক্যান্ডেল লাইট রেস্টুরেন্টের কথা। ঠিক করেছিলাম ওখানে ওর জন্মদিনে একসাথে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করবো। কিন্তু সে সময় দেবে না। তার জন্মদিনে অন্যান্য বন্ধুদেরও তো দাবী আছে। সেদিন আমার সাথে দেখা নাও হতে পারে। কিন্তু আমি ধারনা করতে পারছি। সে বিশেষ কারও জন্য অপেক্ষা করবে। যে ডাকতেও পারে.. নাও পারে..।
আচ্ছা, আমি কোন পর্যায়ে পড়েছি? ভালোতো বাসেই না। কেন তাহলে এতো পাগলামী করছি? অন্ততঃ এতোদিন ভাবতাম বন্ধু হিসেবে দেখে; কিন্তু এখন মনে হচ্ছে… বেহায়া নোংরা কুকুরের পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, যে একটুখানি আদরের জন্য মানুষের শত গালি লাত্থি খেয়েও আশে পাশে ঘুরঘুর করে। আমি মানসম্মান বিসর্জন দেয়া শুরু করলাম কবে থেকে?
দূর দূর… এখন এই সব ভাবছি কেন। যতো যাই হোক, ভালোবাসি। দেখলোই বা আমার দূর্বলতা!

ফোন দিলাম।
“আমি বের হয়ে গেছি।”
“আহ্ .. আমার বোধহয় একটু দেরী হবে।” একটু দ্বিধা নিয়ে ঐ পাশ থেকে জানানো হলো।
“কত দেরী হবে..” বোধহয় কন্ঠটা একটু আদুরে করার চেষ্টা করলাম।
“আমি তোমাকে একটু পরে জানাই? এই দশ মিনিট পরে।”
“আচ্ছা।” বলে লাইন কেটে দিলাম।
বোধহয়…. ও এখনো কার সাথে আছে… বোধহয় বুঝতে পারছি। কথা বলার সময় তার কন্ঠ ছিলো অস্বস্তিতে ভরা। আনমনে বাসডিপোর দিকে হাঁটতে থাকলাম। …কিন্তু আজকে কেন তার সাথে দেখা করতে গেলো? আজকে সে আমাকে সময় দিয়ে রেখেছে। নাহ্ কথা যখন দিয়েছে, কথা অবশ্যই রাখবে। কিন্তু আমি ঐ ছেলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নই, তা-তো সাফ জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কথা দিয়েছে-তো…
ঘ্যাঁচ করে একটা বাস ব্র্যাক কষলো পেছনে। আরি! কখন রাস্তার মাঝখানে চলে এসেছি খেয়ালই করিনি! দ্রুত ফুটপাতে উঠে গেলাম। বাস ড্রাইভার ভ্রঁ কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। পাশ থেকে একটা লোক বলে উঠলো, “কি মিয়া… দিনে দুপরে ব্যস্ত রাস্তার মাঝে হাঁটেন..”
দশ মিনিট নয়, তিন মিনিটের মাথায় ফোন আসলো।
“এই… আজ আসতে পারবো না। তুমি রাগ করো না, হ্যাঁ…” বোধহয় খুশি খুশি কন্ঠে বললো। ব্যাপারটা স্বাভাবিক। সে এখন তার প্রিয় মানুষের সাথে সময় কাটাবে। আমাকে ফোন করে জানিয়েছে, এই-ই তো অনেক বেশি। এর আগেও কথা দিয়ে দেখা না করায় কথা কাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু আমাকে পাত্তা দেয়ার মতো কোন বিষয় নই আমি তার কাছে।
“না, আমি বুঝতে পেরেছি।” থমথমে কন্ঠে কথাটা বলে, বাই না বলেই মোবাইলের নো বাটন চেপে ধরলাম সর্ব শক্তি দিয়ে।
জেদ চেপে গেছে। মোবাইলের নো বাটনে চেপে ধরেছিতো ধরেছিই। বন্ধ হয়ে গেলো মোবাইলটা। ভালোই হলো। কারন জানি এখন স্বাভাবিক থাকলেও কিছুক্ষন পর নিজেকে আর সামলাতে পারবো না। দ্রুত বসার জায়গা খুঁজলাম। কিন্তু আসে পাশে কোথাও বসার জায়গা নাই। মতিঝিল এলাকা। মানুষ গিজগিজ করছে।
যা ভেবেছিলাম, তার চেয়েও দ্রুত পরিবর্তন হলো আমার চেহারা। নাকের দুই পাশ ফুলে গেলো, চোখের কোণা থেকে শুরু করে ঠোঁটের দুই কোণা নিচের দিকে বেঁকে গেলো। মনে হলো বুকের উপর দিয়ে লম্বালম্বিভাবে কেউ ছুরি চালিয়ে ভেতর থেকে হৃদপিন্ডটা টেনে হিঁচড়ে বের করার চেষ্টা করছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। জোরে জোরে শ্বাস নেয়া শুরু করলাম। ফোঁস ফোঁস আওয়াজ বের হচ্ছে বুকের ভেতর থেকে। পাশে থেমে থাকা একটি পুরোনো বাস ধরে দাড়ালাম। কাঁপছি… থরথর করে কাঁপছি। দুই হাতের দিকে তাকালাম। নাহ্ দৃষ্টি ঘোলা হয় নি। কিন্তু হাত দুটো কাঁপছে হিস্টোরিয়া রোগীর মতো করে। কাউকে শাস্তি দেয়া প্রয়োজন। যত রাগ পড়লো হাত দুটোর উপর। দাম করে সর্বশক্তি দিয়ে ঘুষি লাগালাম পাশের একটি পাথরের পিলারের গায়ে। আবার লাগালাম.. আবার… মনে হচ্ছে কাঁধ থেকে হাতটা অবশ হয়ে গেছে। নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে কুলাচ্ছে না। এবার নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ হাঁ বের করে দিলাম। আস্তে আস্তে রাগটা কমে আসলো। এখন খেয়াল করলাম, অনেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার তামাশা দেখছে।
হাঁটা শুরু করলাম। বাসায় যাবো? না অন্য কোথাও? কিন্তু কই যাবো? আমার বেড়ানো বলতে ওকে নিয়েই….
বাসায় গিয়ে মায়ের পাশ ঘেঁষে বসে থাকলাম। আমার চেহারা দেখে তার সন্দেহ হলো। একবার জিজ্ঞেস করলো ‘কি হয়েছে?’। আমি মাথা নাড়লাম। কিন্তু কষ্ট মাখানো দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। হাজার হোক মা-তো.. আমার ভেতরটা যে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারে। এই বুঝতে পারার ক্ষমতা অন্য কোন মেয়ের হবে না.. কোন মেয়ের না।


Jcview ভাইরাস

জানুয়ারি 23, 2008

সম্প্রতি jcview.exe এবং press.exe নামে একটি ভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়েছে। নর্টন এ্যন্টিভাইরাস-সহ কোন এ্যন্টিভাইরাসই এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করতে পারছে না। তবে ভাইরাসটিকে সরানোর উপায় পাওয়া গেছে। আপনার কম্পিউটার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরন করুন:

  1. প্রথমেই Start>Run এ গিয়ে regedit টাইপ করে ইন্টার চাপুন
  2. এবার Ctrl+F চেপে সার্চ বক্সটি অপেন করুন। টাইপ করুন jcview.exe এবং ইন্টার চাপুন।
  3. jcview.exe নামে যত এন্ট্রি পাবেন সব মুছে ফেলুন।
  4. একইভাবে সার্চ করুন press.exe এবং সমস্ত রেজিস্ট্রি এন্ট্রি মুছে ফেলুন।
  5. এবার HijackThis সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করুন এখান থেকে অথবা এখান থেকে
  6. এবার সফটওয়্যারটি ইন্সটল করে ফেলুন।
  7. সফটওয়্যারটি চালু করে Open the Misc Tools section বাটনটিতে ক্লিক করুন।
  8. Delete a file on reboot… বাটনটিতে ক্লিক করুন।
  9. ব্রাউজ উইন্ডোতে C:\Windows -এ গিয়ে jcview.exe লিখে ইন্টার দিন এবং NO বাটনে ক্লিক করুন।
  10. একইভাবে C:\Windows\System এবং C:\Windows\System32 থেকে jcview.exe রিবুটের সময় মুছে ফেলার কমান্ড দিন।
  11. এবার একই পদ্ধতিতে আপনার প্রতিটি ড্রাইভ থেকে মুছে ফেলতে হবে: d.com, tip.exe এবং juok3st.bat। উদাহরস্বরূপ, Delete a file on reboot… বাটনটিতে ক্লিক করুন এবং C:\ ড্রাইভে গিয়ে d.com লিখে ইন্টার চাপুন।
  12. সব কাজ শেষে কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন।
  13. আশা করি আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। :)

a joke about cows and …

অক্টোবর 4, 2007

TRADITIONAL ECONOMICS
You have two cows. You sell one and buy a bull. Your herd multiplies and the economy grows.
You retire on the income.

INDIAN ECONOMICS

You have two cows. You worship them.

PAKISTAN ECONOMICS

You don’t have any cows. You claim that the Indian cows belong to you.
You ask the US for financial aid, China for military aid, British for warplanes, Italy for machines, Germany for technology, French for submarines, Switzerland for loans, Russia for drugs and Japan for equipment. You buy the cows with all this and claim exploitation by the world.

AMERICAN ECONOMICS

You have two cows. You sell one and force the other to produce the milk of four cows.
You profess surprise when the cow drops dead.
You put the blame on some nation with cows and naturally that nation will be a danger to mankind.
You wage a war to save the world and grab the cows.

FRENCH ECONOMICS
You have two cows. You go on strike because you want three cows.

GERMAN ECONOMICS
You have two cows. You re engineer them so that they live for 100 years, eat once a month and milk themselves.

BRITISH ECONOMICS
You have two cows. They are both mad cows.

ITALIAN ECONOMICS
You have two cows. You don’t know where they are. You break for lunch.

SWISS ECONOMICS
You have 5000 cows, none of which belong to you. You charge others for storing them.

JAPANESE ECONOMICS
You have two cows. You redesign them so that they are one-tenth the size of an ordinary cow
and produce twenty times the milk. You then create cute cartoon cow images called Cowkimon
and market them worldwide.

RUSSIAN ECONOMICS
You have two cows. You count them and learn you have five cows. You count them again and learn you have 42 cows.
You count them again and learn you have 17 cows. You give up counting and open another bottle of vodka.

CHINESE ECONOMICS

You have two cows. You have 300 people milking them. You claim full employment, high bovine productivity and arrest anyone reporting the actual numbers.

BANGLADESH ECONOMICS

You have two cows. You don’t know economy. You choose one of them as the Prime Minister of the country
and the other as the Leader of the Opposition.


A টু Z কম্পিউটার গ্লোসারি

সেপ্টেম্বর 22, 2007

প্রফেসর আব্দুল মান্নান সরকারএটা দিয়ে ছিলেন নট্রামসের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর মো: আব্দুল মান্নান সরকার। বলেছিলেন অন্যদের সাথে শেয়ার করতে। হয়তো অন্যরাও উপকৃত হবে।
কম্পিউটারের A থেকে Z পর্যন্ত শব্দভান্ডার রয়েছে এখানে। পড়তে গেলে বোঝা যায় বহু কষ্টের সাধনা। পড়ে দেখুন; হয়তো আপনারও কোন উপকারে আসবে।
ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন


মোবাইল4দেশি

মে 12, 2007

কাজ করে চলছি, কাজ করে চলছি। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে ভালো ওয়েব ডিজাইনার পাচ্ছি না! কি আশ্চর্য কথা! এই বলে বাংলাদেশ থেকে গাদা গাদা লোক কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছে; কিন্তু কাজ করতে গেলেই দেখা যায় কোত্থাও কেউ নাই! :(